মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং বাকিদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার সকালে। বিএনপি নেতা দবির উদ্দিন ও তার লোকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আব্বাস আলীর বাবা-মাকে মারধর করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান সাহারবাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ফরমান আলী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দবির উদ্দিনের অনুসারীরা ফরমান আলীকেও মারধর করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে এই মারধরের জেরে রাতে ফরমান আলী ও দবির উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধে যায়। রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া গ্রামটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা দবির হোসেন দাবি করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতা আব্বাস আলী তাদের পরিবারের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়েছেন। এমনকি তাদের গোয়ালের গরু নিয়ে যাওয়া এবং মাঠের ফসল তুলতে না দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাই তারা ‘মারের বদলে মার’ নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউপি সদস্য আব্বাস আলী অভিযোগ করেছেন যে, ৫ আগস্টের পর থেকে দবির উদ্দিন তার কাছ থেকে বারবার চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। কয়েক দফায় চাঁদা দিলেও পুনরায় টাকা না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে তার বাবা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানিয়েছেন, বর্তমানে সাহারবাটি গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় বাড়তি উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত চলছে।







