মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের অনতিবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব স্থলপথ অথবা আকাশপথে চীনে ফিরে যাওয়ার জন্য দূতাবাস থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, ইসরায়েলে অবস্থিত চীনা দূতাবাস পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মিসর সীমান্তবর্তী ‘তাবা ক্রসিং’ ব্যবহারের বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের ওপর ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্রতা এখন বহুগুণ বেশি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংঘাতের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই সময়মতো বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না, ফলে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বেইজিংয়ের প্রধান অগ্রাধিকার।
চীনা দূতাবাস তাদের নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করে বলেছে, যারা এখনও দেশ ছাড়তে পারেননি, তারা যেন বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেল শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো থেকে দূরে থাকেন। এছাড়া সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনাগুলো থেকেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
তেহরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই স্থাপনাগুলোকেই প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করায় সেখানে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে চীন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর নির্দেশনা আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে।







