রাজধানীর চকবাজার থানার কামালবাগ বেড়িবাঁধ এলাকার মদিনা পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের একটি পাম্পে গ্যালন ও ড্রামের মাধ্যমে খোলা বাজারে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তেল সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে পাম্পটি।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পের ভেতরে রিকশা ও ভ্যানযোগে সাদা, নীল ও লোহার বড় ড্রামে তেল ভরা হচ্ছে। বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা থাকলেও কর্মচারীদের একাধিকবার গ্যালন ও ড্রামে তেল সরবরাহ করতে দেখা গেছে। পরে কয়েকটি রিকশা ও ভ্যানগাড়িকে ওই তেল বহন করে চলে যেতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা কর্মচারী আলম ও রহমান প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলেও পরে স্বীকার করেন, তারা গ্যালন ও ড্রামে তেল দিচ্ছেন, তবে সরাসরি যানবাহনে নয়।
তাদের দাবি, শুধুমাত্র থানার লিখিত অনুমতি থাকা ব্যক্তিদের কাছেই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা বলেন, অনুমতিপত্রসহ এলে তেল দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি লেনদেন খাতায় লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। এমনকি প্রয়োজনে থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিষয়টি যাচাই করার কথা জানান তারা।
কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব বাড়িতে জেনারেটর রয়েছে, তারা থানার অনুমতি নিয়ে এলে সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেও একজনকে ৩০ লিটার তেল দেওয়া হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এই পাম্প থেকে রাতের অন্ধকারে এবং নিরিবিলি সময়ে বিভিন্ন উপায়ে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এখান থেকে তেল সংগ্রহ করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাইরে নিয়ে গিয়ে প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করছে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।
পাম্পের ম্যানেজার শিপলু জানান, থানার অনুমতি নিয়ে যারা আসছেন, তাদেরকেই সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কেউ ৫০ লিটার চাইলে সুপারিশ অনুযায়ী কমিয়ে ১০ লিটার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও স্বীকার করেন, গ্যালন বা ড্রামে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তা অনুমতির ভিত্তিতেই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসন অনুমতি দিলে তাদের পক্ষে তা মানা ছাড়া উপায় নেই।
তবে চকবাজার থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন পাম্প কর্তৃপক্ষের এ দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, খোলা বাজারে গ্যালন বা ড্রামে করে তেল বিক্রির কোনো অনুমোদন নেই এবং এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ এতে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







