সংবিধান কখনো সংস্কার হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা সংশোধন হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মত ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক আইনি প্রতারণা বা ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে এবং বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সংশোধন বা বাতিল করবে। বিশেষ করে সংবিধানের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে থাকা তথাকথিত ভুল ইতিহাস ও স্বাধীনতার ঘোষণা সংশোধন করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে ‘প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট’ হিসেবে ঘোষণা দেন। এই প্রকৃত ইতিহাসটিই সংবিধানে পুনর্বহাল করার দাবি জানান তিনি। এছাড়া সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি আবারও ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানান।
রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পেয়েছেন, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে। বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো প্রেসক্রিপশন নয়, বরং সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতেই সংবিধানের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারিত হবে বলে তিনি বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।







