রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, তিনি খুব শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং ২৫ জুলাইয়ের আগেই পদত্যাগপত্রে সই করার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে সরকারের অভ্যন্তরে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাংবিধানিক মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর ২০২৮ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির পদে পরিবর্তন আনার দাবি ওঠে। ওই সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বঙ্গভবন ঘেরাওসহ তাঁর পদত্যাগের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেছিল।
পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় পদত্যাগ করবেন। সম্প্রতি সার্বিক পরিস্থিতি বিচারে পদত্যাগের এই সম্ভাবনা নতুন করে গতি পেয়েছে।
১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনায় জন্মগ্রহণকারী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন কর্মজীবনে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারে মুন্সেফ হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বিচারিক জীবন শেষে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন। পরবর্তীতে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।







