ইরান বুধবার ভোরে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘নীতিগতভাবে’ তাদের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-র বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি মূলত একটি বড় ধরনের চুক্তির আলোচনার কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। তবে পরিকল্পনার সব খুঁটিনাটি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরআইবি-র তথ্যমতে, ইরানের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ইরানবিরোধী প্রস্তাব বাতিল এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুদ্ধ বাহিনী প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধের শর্তও দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই আলোচনার অর্থ এই নয় যে যুদ্ধ এখনই শেষ হয়ে গেছে। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ইরানের দেওয়া সব শর্ত পূরণ এবং বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়ার পরেই কেবল চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আলোচনা চলাকালীন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহব্যাপী এই সংলাপ চলবে এবং উভয় পক্ষ সম্মত হলে সময় আরও বাড়ানো হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ইরানে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ইরানের এই প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য একটি ‘কাজ চালানোর মতো ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।







