আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতের এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে। এই আইনের আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরে সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদে বিল পাস করা হয়, যেখানে মূল বিধানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
নতুন আইনের ফলে শুধু কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করাই নয়, তাদের সব ধরনের কার্যক্রমও বন্ধ রাখার ক্ষমতা সরকারের হাতে এসেছে। আগে এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান আইনটিতে স্পষ্টভাবে ছিল না। সংসদে বিলটি পাস হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সাইফুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ এটিকে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখছেন।
লেখক আহমেদ আফগানি তার পোস্টে বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে কিছু জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবীদের জন্য সময়টা ছিল লাভজনক। তখন বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও কারাবন্দি হওয়ার ঘটনায় তারা আইনি সহায়তার মাধ্যমে আর্থিকভাবে উপকৃত হতেন।
তিনি ইঙ্গিত করেন, বর্তমানে সেই পরিস্থিতি না থাকায় কিছু মানুষের আর্থিক সুবিধা কমে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে একজন জামায়াতের মনোনয়ন পাওয়া আইনজীবী এমপি প্রার্থীর আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশকে তিনি সমালোচনা করেন।
তার বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্বার্থ অনেক সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করে ফেলতে পারে।
পুরো ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ সাইফুর রহমানের বক্তব্যকে দলীয় অবস্থানের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছেন এবং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলছেন।







