বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদের পথেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দুইটি আসনের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে—“যেই লাউ সেই কদু”, শুধু নাম পরিবর্তন হলেও পদ্ধতি একই রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, এতদিন বিএনপি জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে এবং এখন একই ধরনের শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে যেমন ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও তা প্রতিরোধ করা হবে।
নির্বাচন ও সহিংসতা প্রসঙ্গ
দুই আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল রয়েছে। শুধু স্থান পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু কৌশল অপরিবর্তিত।
শেরপুরে দলীয় এক উপজেলা সেক্রেটারির হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান এবং স্পিকারের মাধ্যমে দোষীদের বিচার দাবি করেন।
সংসদে ওয়াকআউটের ব্যাখ্যা
বিরোধীদলীয় নেতা জানান, সংসদের অধিবেশনে কিছু বিল জনস্বার্থে সমর্থন করা হলেও, কিছু বিলের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন, বিচার বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস এবং নির্বাচন ব্যবস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদলকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি, যেখানে মন্ত্রীদের বক্তব্যে কোনো সময়সীমা ছিল না। এ অবস্থাকে তিনি ভারসাম্যহীন বলে উল্লেখ করেন এবং স্পিকারের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন
বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার নিয়ে উদ্বেগ
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বিচার বিভাগের নিয়োগ নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হবে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা
তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস হওয়া জনবিরোধী আইনের প্রতিবাদে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন, তবে সংসদ বর্জন করেননি। ভবিষ্যতেও জনগণের পক্ষে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






