জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশটি সংসদ কর্তৃক বাতিল হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন কমিশনের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল’ পাস হওয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশটি রহিত করে ২০০৯ সালের পুরনো আইনটি আবার চালু করা হয়েছে। এর ফলে আইনি বাধ্যবাধকতা ও নৈতিক অবস্থান থেকে কমিশনের সদস্যরা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
বিদায়ী কমিশনের সদস্য ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী নূর খান জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সরাসরি পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে যেহেতু তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশের অধীনে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং এখন সেই অধ্যাদেশটিই আর কার্যকর নেই, তাই পদত্যাগ করাকেই তাঁরা সমীচীন মনে করেছেন। কমিশনের সচিবও নিশ্চিত করেছেন যে, অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার ফলে আগের কমিশনটি আর বিদ্যমান নেই।
পদত্যাগের পর বিদায়ী সদস্যরা একটি যৌথ ‘খোলাচিঠি’ প্রকাশ করেছেন। সেখানে তাঁরা সংসদে উপস্থাপিত বিভিন্ন তথ্যের জবাব এবং ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। চিঠিতে তাঁরা উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তিস্বার্থে নয় বরং বছরের পর বছর ধরে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁরা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে এই চিঠি লিখেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কমিশন পদত্যাগ করলে দীর্ঘদিন পদটি শূন্য ছিল। এরপর ২০২৫ সালে জারি করা নতুন অধ্যাদেশের আলোকে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংসদ সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে পুরনো আইন পুনর্বহাল করায় নতুন এই কমিশনের কার্যক্রমও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো।







