যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং ওয়াশিংটনকে সমঝোতায় আনতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তেহরান এখন ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। আরাগচি ইতিমধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা অমীমাংসিত থাকলেও ইরান বিষয়টিকে শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করছে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং ইউরেনিয়াম মজুত কমানোর বিষয়ে তারা তাদের প্রস্তাবগুলো ইউরোপকে অবহিত করছে। ইরান ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বদলে তা লঘু করার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি নৌ-জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। তেহরান এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে তুলনামূলক কম টোল নির্ধারণের মাধ্যমে বেশি দেশকে এই ব্যবস্থায় টানতে চায়। এমনকি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ফি আদায়ের বিষয়টিও ইরানের বিবেচনায় রয়েছে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা কৌশলগত দূরত্বের সুযোগ নিতে চায় ইরান। তেহরান লক্ষ্য করছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও ইসরায়েলমুখী অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্ত থেকে নিজেদের সরিয়ে এনে স্বতন্ত্র অবস্থান নেয় কি না, ইরান এখন সেটিই পর্যবেক্ষণ করছে।
দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার জন্য হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিশ্লেষকরা। এতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নৌ-নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াই আগামীর গতিপথ নির্ধারণ করবে।







