পাকিস্তান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক মধ্যস্থতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জেদ্দায় সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ৪টি সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তা স্থায়ী শান্তির বদলে উভয় পক্ষের জন্য সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের একটি কৌশলগত বিরতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সংঘাতের অন্যতম প্রধান সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রক্সি শক্তি বা ছায়াযুদ্ধের বিস্তার। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে ইরাক, ইয়েমেন বা লোহিত সাগরে একে অপরের ওপর সীমিত সামরিক চাপ বজায় রাখতে পারে দেশ দুটি। তবে এই ধরণের নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার ক্ষেত্রে একটি সামান্য ভুল হিসাব বা ভুল সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে অনাকাঙ্ক্ষিত এক পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
পর্দার আড়ালের কূটনীতি নিয়ে এখনও আশা দেখছেন অনেকে। পাকিস্তানে আলোচনা আশানুরূপ সফল না হলেও কাতার বা ওমানের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা এবং ইরানের ১০ দফা দাবির মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে আনা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এর লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করা হলেও, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য এমন এক অস্পষ্ট পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে যুদ্ধ ও শান্তি একই সমান্তরালে অবস্থান করছে। এই কাঠামোগত অস্থিতিশীলতাই আগামী দিনে অঞ্চলের নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।







