কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিও ফুটেজে যাদের হামলায় নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে এবং যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে লোক জড়ো করেছিলেন, তাদের নাম এজাহারে নেই। এর পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন মতাদর্শের নেতাদের আসামি করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
মামলার এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে এবং দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে খেলাফত মজলিসের উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামানকে। অথচ অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার সামনের সারিতে ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীকে সক্রিয় দেখা গেছে। এমনকি হামলার আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লোক সংগঠিত করা ব্যক্তিদের নামও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হামলার সময় স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র হাতে আস্তানায় প্রবেশ করেন। ঘটনার আগে ছাত্রদলের এক কর্মী ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সবাইকে আসার আহ্বান জানান এবং কুরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রতিহতের ডাক দেন। অথচ বাদীপক্ষ এসব ব্যক্তিকে আসামি না করে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ দাবি করেছেন, তিনি হামলার আগে পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ করেছিলেন, যার প্রমাণ পুলিশের কাছেও রয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করছে, একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে এবং অন্য পক্ষকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এই মামলা সাজানো হয়েছে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, এজাহারে কাদের নাম থাকবে সেটি বাদীর বিষয়। তবে তদন্ত চলাকালীন ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত দোষীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং নির্দোষ কেউ থাকলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।







