ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর আট নেত্রী মনোনয়ন পেয়েছেন। দলটির মহিলা বিভাগের প্রস্তাবনা ও নানা বিবেচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মনোনীতদের সবারই রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, পাশাপাশি দলের প্রতি ত্যাগ ও নিষ্ঠাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আটজনের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে দুজন সরাসরি জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হন। বর্তমানে তারা সবাই দলটির মহিলা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন তারা। সংসদে গিয়ে জাতীয় ইস্যুর পাশাপাশি নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনে আনুপাতিক হারে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে একটি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দিয়ে বাকি আসনগুলো জামায়াতের পাওয়ার কথা ছিল। তবে জোটগত সমন্বয়ের স্বার্থে জামায়াত আটটি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। অবশিষ্ট আসনগুলোতে জুলাই শহীদের পরিবারের একজন সদস্য, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং এনসিপির প্রতিনিধিদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জোটের ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তাদের গেজেট প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর শপথ গ্রহণ করবেন তারা।
অন্যদিকে এনসিপির আরেক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মনোনীতরা নিজ নিজ যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
জামায়াতের নারী এমপি তালিকায় রয়েছেন মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মারজিয়া বেগম, আইনজীবী সাবিকুন্নাহার মুন্নী, প্রচার ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাজমুন্নাহার নীলু, অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান, বগুড়া অঞ্চলের সংগঠক সাজেদা সামাদ, চট্টগ্রামের শামছুন্নাহার বেগম এবং প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ।
তাদের মধ্যে কেউ শিক্ষকতা, কেউ আইন পেশা, কেউবা সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, কেউ গবেষণা ও মানবাধিকার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত, আবার কেউ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
সংসদে গিয়ে তারা আইন প্রণয়ন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে জোটের বাইরে থেকেও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জুলাই শহীদ পরিবারের একজন সদস্য, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাগপার প্রতিনিধি এবং এনসিপির প্রার্থীরা। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে আরও একজন প্রার্থীর অন্তর্ভুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।







