তুরস্ক তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে এক বৈপ্লবিক মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দেশটির ৮১টি প্রদেশের প্রতিটিতেই এখন থেকে ড্রোন উৎপাদন ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রতিরক্ষা শিল্পকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার এই বিকেন্দ্রীকরণ নীতির মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা।
বিখ্যাত ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘বায়কার’-সহ তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যুক্ত হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে তরুণ প্রজন্মের জন্য ড্রোন ডিজাইন, অত্যাধুনিক সফটওয়্যার তৈরি এবং উৎপাদনের হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তুরস্ক সামরিক শক্তির পাশাপাশি প্রযুক্তিগতভাবেও সম্পূর্ণ স্বনির্ভর হওয়ার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

তুরস্কের এই অগ্রযাত্রার আবহে বাংলাদেশেও ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেসের শিক্ষার্থীরা নিজস্ব ড্রোন ডিজাইন ও ফ্রেম তৈরির কাজ শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উৎপাদনের বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুরস্কের এই মডেলটি কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কৌশল। বাংলাদেশের জন্য এই খাতে অপার সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। শুধুমাত্র পরিকল্পনা নয়, বরং বাস্তবায়নের গতিই নির্ধারণ করবে প্রযুক্তিগত এই বিশ্ব-প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কতটুকু এগিয়ে যেতে পারবে।







