ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের আলোচিত উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির আটটি বিভাগের মধ্যে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় ছিল।
বিসিএস ২৮তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা পুলিশ বাহিনীতে তাঁর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার জন্য পরিচিত। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সচিবালয়, হাইকোর্ট, টিএসসি এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ এলাকার শতাধিক আন্দোলন সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এছাড়া নিউমার্কেটসহ রমনা বিভাগের বিভিন্ন সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো বারবার গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
তবে মাসুদ আলমকে নিয়ে বেশ কিছু বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে আন্দোলন দমনের সময় এক আন্দোলনকারীর মুখ চেপে ধরার একটি ছবি ভাইরাল হলে তা নিয়ে ব্যাপক তর্কের সৃষ্টি হয়। যদিও ডিএমপি ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছিল, তবে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যম ছবিটি তাদের নিজস্ব আলোকচিত্রীর তোলা বলে প্রমাণ পেশ করে। এছাড়া ওই সময়েই আন্দোলন দমনে তাঁর কিছু বক্তব্য ও ফোনালাপ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।
মাসুদ আলম নগরবাসীর কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে টানা কয়েক মাস তাঁর নেতৃত্বে সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন উদ্যানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হতো। এই অভিযানের মাধ্যমে মাদক নির্মূলে তাঁর কঠোর অবস্থান জনসাধারণের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার হিসেবে তাঁর এই নতুন পদায়ন নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকা রমনা সামলানোর পর এখন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি কী ধরনের ভূমিকা রাখেন, সেদিকেই সবার নজর।







