ইসলামে হারাম শরিফ একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানিত স্থান। এখানে মুশরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। হারাম এলাকায় হত্যা, সংঘর্ষ, যুদ্ধ বা কোনো ধরনের বিবাদে লিপ্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি এ সীমানার ভেতরে কোনো পশু-পাখি বা জীবজন্তুকে হত্যা করা বা তাড়িয়ে দেওয়াও হারাম।
মক্কার চারপাশের নির্দিষ্ট একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইসলামে ‘হারাম’ হিসেবে বিবেচিত, যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই নির্ধারিত। জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে এ সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সীমানা চিহ্নিত করা হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমাকে তো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই নগরের রবের ইবাদত করতে—যিনি একে সম্মানিত করেছেন। সব কিছু তাঁরই অধীন, আর আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।” (সুরা নামল: ৯১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যেদিন আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেদিনই মক্কাকে সম্মানিত বা হারাম ঘোষণা করেছেন। কেয়ামত পর্যন্ত এটি হারামই থাকবে।” (সহিহ বুখারি: ৩১৮৯)
কাবা শরিফের চারপাশে হারামের সীমানা
- তানঈম: মদিনার পথে অবস্থিত। এখানে ‘মসজিদে আয়েশা’ রয়েছে। মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দূরে।
- নাখলাহ: মক্কা থেকে তায়েফের পথে অবস্থিত, দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার।
- জিয়িররানাহ: তায়েফমুখী পথে অবস্থিত, দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার।
- এযাতু লাবান (আকীশিয়্যাহ): মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে।
- হুদাইবিয়্যাহ (শুমাইসিয়াহ): দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার।
- জাবালে আরাফাত (যাতুস্সালীম): এটিও প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
হারাম এলাকায় প্রবেশের আদব
হারাম এলাকায় প্রবেশের সময় বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার করা, বিনয়ের সঙ্গে তালবিয়া ও দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা উত্তম। জেদ্দা থেকে মক্কায় প্রবেশের ক্ষেত্রে শুমাইসি বা হুদাইবিয়্যা থেকে হারামের সীমানা শুরু হয়। সম্ভব হলে এখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা ভালো।
মসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় সাধারণ মসজিদে প্রবেশের সুন্নতগুলো অনুসরণ করা উচিত,বিসমিল্লাহ পড়ে প্রবেশ করা, দরুদ শরিফ পাঠ করা, “আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রহমাতিক” দোয়া পড়া এবং ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা।







