সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর আসছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা জমা দিয়েছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বর্তমানের তুলনায় বেতন দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও পৃথক বেতন কমিশনের প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে।
এই তিনটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়নে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিটি ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ দেবে।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে মোট বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা আগে ছিল ১:৯.৪। তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় উচ্চ ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য প্রচলিত গ্রেডের বাইরে আলাদা বিশেষ ধাপ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা পরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে।







