পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের ৯টি জেলা থেকে দলটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খোদ দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে পরাজিত হয়েছেন। এই পরাজয়ের আবহেই তিনি ভোট গণনাকেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, সোমবার গণনার দিন ভবানীপুর বিধানসভার গণনাকেন্দ্র সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে এবং লাথি মারা হয়েছে। তিনি এই জয়কে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, বিজেপি অন্তত ১০০টি আসন লুট করেছে এবং নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করেছে।
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তৃণমূলের এজেন্টদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে সেখানে গিয়ে অনুরোধ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। তাঁর মতে, এই নির্বাচনী ফলাফলে কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তৃণমূল ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের পর এবারও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর আসনে তিনি শুভেন্দুর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এর আগে নন্দীগ্রামে হারের ব্যবধান ছিল ১ হাজার ৯৫৬ ভোট। অন্যদিকে, বড় জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী এই ফলাফলকে ‘জনগণের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।







