অপ্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল টেস্ট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ায় একটি ল্যাবের চেম্বার স্থায়ীভাবে বর্জন করেছেন চিকিৎসক মো. মিনহাজুল করিম তুষার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নবজাতক, শিশু ও চর্মরোগের রোগী দেখার সময় ল্যাবের ম্যানেজার একজন নারী কর্মচারীর মাধ্যমে চিরকুট পাঠিয়ে নির্দিষ্ট ল্যাব থেকে টেস্ট দেওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করেছিলেন।
এই ঘটনার পরপরই ডা. তুষার ল্যাব কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, চিকিৎসার প্রয়োজনে ছাড়া অহেতুক কোনো পরীক্ষা রোগীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না এবং পরবর্তীতে এমন জোর করা হলে তিনি সেখানে রোগী দেখা বন্ধ করে দেবেন। এই প্রতিবাদের পর ল্যাব কর্তৃপক্ষ কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও পরে ভিন্ন কৌশলে তাকে চেম্বারে আসতে নিরুৎসাহিত করে।
রমজান মাসে ল্যাব কর্তৃপক্ষ ওই চিকিৎসককে ফোন করে জানায় যে, রোজায় মানুষ রক্ত পরীক্ষা করতে চায় না বলে চেম্বারে টেস্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই তিনি যেন না আসেন। ল্যাব কর্তৃপক্ষের এমন ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি দেখে ডা. তুষার তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি আর কখনোই ওই ল্যাবে প্র্যাকটিস করবেন না। কারণ তাদের কাছে রোগীর সেবার চেয়ে ল্যাব টেস্টের ব্যবসাই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঈদের পর ল্যাব কর্তৃপক্ষ বারবার তার সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ডা. তুষার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে সেবার নামে শুধু টেস্ট বাণিজ্য চলে, সামর্থ্য থাকলে তিনি তেমন ল্যাব ও ক্লিনিক বন্ধ করে দিতেন। নিজের অবস্থান থেকে প্রতিবাদ হিসেবে ওই ল্যাব বর্জন করাকেই তিনি সঠিক পদক্ষেপ বলে মনে করেন এবং রোগীদের স্বার্থ রক্ষায় অন্য চিকিৎসকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।







