নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ঘটেছে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। প্রায় ৫৪ বছর আগে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক জেলে হঠাৎ ফিরে এসেছেন নিজের গ্রামে। ফিরে আসা ওই ব্যক্তির নাম ছৈয়দ আহাম্মদ। তিনি মৃত ধন মিয়ার ছেলে এবং হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফজলি বাড়ির বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ দশক আগে কুতুবদিয়া এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির শিকার হন ছৈয়দ আহাম্মদ। দুর্ঘটনার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। একসময় পরিবার ধরে নেয় তিনি আর বেঁচে নেই। তখন তার স্ত্রী ছামনা খাতুনের কোলে ছিল ছোট্ট সন্তান আকরাম।
স্বজনদের দাবি, ট্রলারডুবির পর কোনোভাবে ভেসে ভারতের একটি এলাকায় পৌঁছে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটে তার জীবন। বিভিন্ন মসজিদ, মাজার ও পথেঘাটে দিন কাটাতে কাটাতে জীবনের বড় একটি সময় অতিবাহিত করেন ভারতের আজমীর শরীফ এলাকায়।
সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় দুর্বৃত্তদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারান তিনি। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরত আসেন। এরপর স্মৃতির টানে নিজের জন্মভিটায় ফিরে আসেন।
গত মঙ্গলবার বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দিলে প্রথমে কেউ তাকে চিনতে পারেননি। পরে সহপাঠী, আত্মীয়স্বজন ও এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা তাকে শনাক্ত করেন।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ ভিড় করেন বহু বছর পর ফিরে আসা এই মানুষটিকে একনজর দেখতে।
ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে আকরাম বলেন, জন্মের পরপরই তার বাবা নিখোঁজ হন। এতদিন তিনি শুধু বাবার গল্প শুনেছেন, এবার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বাবাকে কাছে পাওয়ার সুযোগ হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে জানতে চাইছেন— এত বছর তিনি কোথায় ছিলেন এবং কেন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। পরিবার চাইলে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।







