দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে ৪০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৬৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও অন্তত দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। পুষ্টিহীনতা, সময়মতো টিকা না দেওয়া এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন না হওয়াকে এই প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৯ হাজার ১৫৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৯০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮১৯ জনে। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে হামের প্রকোপ বাড়লেও বাংলাদেশের মতো এত বেশিসংখ্যক শিশুর মৃত্যু অন্য কোথাও দেখা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে হামে মৃত প্রত্যেক শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছে মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’। রিটে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে আইসিইউ, পিআইসিইউ এবং হাম চিকিৎসার বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া হামের প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত কারণ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা তদন্তে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নীতিগত পরিবর্তন এবং ইউনিসেফের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় এই স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটেছে। তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে সম্ভাব্য টিকা সংকট ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর দ্বৈত বেঞ্চে সোমবার (১১ মে) এই রিটের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
একই রিটে দেশে জলাতঙ্ক রোগের টিকার মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার হালনাগাদ তথ্য সাত দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, গত ৫ মে বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।







