ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার পরামর্শে এবং বাংলাদেশে ব্যবহৃত কৌশলের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। অলি আহমদের দাবি, সেখানে নির্বাচনের পর থেকেই সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
কর্নেল অলি অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ৩৬০টিরও বেশি দোকান ও মসজিদ ভেঙে লুটপাট করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিচার হওয়া উচিত। ভারত সরকারকে এ ধরনের সহিংসতা বন্ধ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে অলি আহমদ বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। তিনি সরকারকে জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায় মেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী চাটুকারদের দ্বারা বেষ্টিত উল্লেখ করে তিনি তাঁকে জনগণের কাতারে ফিরে আসার আহ্বান জানান। দেশের আইন কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং মানুষের উপকারের জন্য—তাই প্রয়োজনে আইন পরিবর্তনেরও দাবি তোলেন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আসছে না এবং বিদ্যমান বড় বিনিয়োগগুলোও চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিদিনের সংবাদপত্রের পাতায় খুনের খবর থাকছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের মনে শান্তি নেই এবং এই পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী। তিনি দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে রাজপথে আবারও রক্ত দেওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা সেখানে বক্তব্য রাখেন।







