প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া কোনো জাতির টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। কেবল পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগী হতে হবে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত “বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও টেকসই রূপান্তর” শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের যুগে প্রবেশ করেছে। এ বাস্তবতায় পুরোনো ধ্যানধারণার শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান, গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
তারেক রহমান আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণানির্ভর জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, আধুনিক ল্যাব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে যে সংযোগ রয়েছে, বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করেই কর্মক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না। এ জন্য শিক্ষকদেরও সময়ের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের চর্চাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
কর্মশালায় ইউজিসির চেয়ারম্যান, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ, গবেষণার সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা এবং টেকসই সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।







