পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার রাতে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর পৌরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জড়িত থাকা এবং তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সকালে তিনি আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার ইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুজিত বসু বিভিন্ন প্রশ্নের অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দিয়েছেন এবং বয়ানে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। দক্ষিণ দমদম পৌরসভার উপ-পৌরপ্রধান থাকাকালে অর্থের বিনিময়ে কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে তিনি বিশাল অংকের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এই মামলার সূত্র ধরে এর আগে তাঁর বাসভবন ও কার্যালয়েও তল্লাশি চালিয়েছিল সংস্থাটি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন সুজিত বসু। নির্বাচনে হারের পরপরই তাঁর এই গ্রেপ্তারকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, এই একই মামলায় রাজ্যের আরেক সাবেক মন্ত্রী রথীন ঘোষও অভিযুক্ত রয়েছেন, যদিও তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গে স্কুলশিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। সুজিত বসুকে মঙ্গলবার বিশেষ আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।







