বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় বেশ কিছু দিন ধরে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জন্ম ১৯৪৩ সালে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে লাহোর থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ছাত্রজীবনেই ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৪৮ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি সফল উদ্যোক্তা এবং সমাজসেবক ছিলেন। তিনি কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী ‘হোটেল সায়মন’ এবং চট্টগ্রামের ‘দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং’ হোটেলের চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক হামলার শিকার হয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।







