চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ড. জহুরের বিরুদ্ধে ওঠা নানা আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে এই নিয়োগ ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
ড. সালেহ জহুরের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাংকের সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক থাকাকালীন তিনিসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ট্রাস্টের কোটি কোটি টাকা তছরুপের মামলাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। বর্তমানে তাঁর ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ বা ফ্রিজ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্নীতির মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকা সত্ত্বেও এমন একজনকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। সমালোচকদের মতে, ফ্যাসিবাদী সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাউকে এ ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করবে।
অভিযোগের বিষয়ে ড. সালেহ জহুর দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি নিজেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত দাবি করে বলেন, জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ডিন করতে না পেরে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে তিনি কেবল নিয়মতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুদকের তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলে বিশ্বাস করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।
বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান এই নিয়োগকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ড. জহুরের একাডেমিক ক্যারিয়ার ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বিশ্বাস করে, তিনি তাঁর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন। তবে দুদকের তদন্ত চলাকালীন এমন বিতর্কিত নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







