পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজ সিং নামে এক ব্যক্তিকে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সে রাজ্যের পুলিশ ও এসটিএফ। রাজ সিং একজন পেশাদার শুটার হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর গ্রেপ্তারের পর দুই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, রাজ সিং উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার আনন্দ নগরের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে যথেষ্ট প্রভাবশালী। তিনি অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিজেপির পতাকা লাগানো গাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এমনকি বালিয়ার স্থানীয় নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত রাজ সিংয়ের অপরাধের রেকর্ড বেশ পুরোনো। ছয় বছর আগে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তিনি জেল খাটেন এবং বর্তমানে জামিনে মুক্ত ছিলেন। চন্দ্রনাথ রথ খুনের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে তাঁর কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখছে সিবিআই-এর বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)। অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এই মামলাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাজ সিংয়ের পরিবার অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁর মা দাবি করেছেন, রাজকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে এবং ঘটনার দিন তিনি বালিয়াতেই উপস্থিত ছিলেন। তবে সিবিআই রাজ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে খুনের প্রকৃত কারণ ও এর নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের পরিচয় উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারীর খুনের ঘটনায় এমন একজন ব্যক্তির গ্রেপ্তারি পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশ উভয় রাজ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।







