জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার রাজনীতিতে প্রবেশ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খেলার মাঠে সক্রিয় থাকাকালীন সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া এবং সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, দলের ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াপ্রেমীদের বড় একটি অংশকে হতাশ করেছে।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাশরাফি। সেই নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩,১৭,৮৪৪ জন, যার মধ্যে ভোট পড়েছিল ২,৭৯,৭০২ জন। এই ভোটের মধ্যে মাশরাফির নৌকা প্রতীক পায় ২,৭১,২১০ ভোট, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীক পায় মাত্র ৭,৮৮৩ ভোট। অর্থাৎ, মোট কাস্ট হওয়া ভোটের ৯৬.৯৬ শতাংশই মাশরাফির অনুকূলে যায়, যা নিয়ে সে সময় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল।
সমালোচকদের দাবি, এই ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। মাশরাফি নিজে এই প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশেই নড়াইলবাসীর ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করে সংসদে হুইপ পদ গ্রহণ করা এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের অংশীদার হওয়ার বিষয়টি তাঁর ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে বিতর্কিত করে তোলে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৫ আগস্ট নড়াইলে মাশরাফির বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। অনেকের মতে, এটি ছিল ভোটাধিকার হারানো মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে মাশরাফি তাঁর বর্তমান অবস্থা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও, অনেকে একে ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল’ বা আবেগ বিক্রির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, তিনি একদিকে সহমর্মিতা খুঁজছেন, আবার অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক আনুগত্যের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মাশরাফি বিন মর্তুজা নিজেকে এখনও আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবেই উপস্থাপন করছেন। গত ১৭ বছরের শাসনের পক্ষে তাঁর অবস্থান এবং বর্তমান রাজনৈতিক সংলাপে তাঁর ভুমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে। খেলাধুলা ও রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলার এই সংস্কৃতি দেশের ভবিষ্যতের জন্য কতটুকু সুখকর হবে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।







