অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা একটি ছোঁয়াচে ব্যাধির মতো, যা এক দেশ থেকে অন্য দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তার মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বৃদ্ধি পেলে এর নেতিবাচক প্রভাব প্রতিবেশী ভারত-সহ পুরো অঞ্চলে পড়বে।
সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সাম্প্রদায়িকতা করোনার মতো একটি রোগ। এর কাছাকাছি যাওয়া বিপজ্জনক, কারণ এটি ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে দেখা গেছে, যেখানে এই প্রবণতা শুরু হয়েছে, সেখান থেকেই তা অন্যত্র বিস্তার লাভ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে যদি সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বাড়ে, তাহলে ভারতও এর বাইরে থাকবে না। কারণ এ ধরনের পরিস্থিতি পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।”
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান, এই তিনটি দেশই সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের কারণে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, শ্রীলঙ্কা রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নেপাল দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক অস্থিরতার মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করছে। একইভাবে ভুটানও স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারত পারস্পরিক নানা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফজলুর রহমানের ভাষায়, “শুধু ভারতেই সাম্প্রদায়িকতা হচ্ছে আর আমরা পুরোপুরি নির্দোষ, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। সমস্যাটি দুই দিকেই রয়েছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে যে ধরনের জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা দেখা যাচ্ছে, তা কল্পনারও বাইরে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দেশে এমন পরিস্থিতি কাম্য ছিল না। এখানে আমাদেরও ব্যর্থতা রয়েছে।”
ভারতবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ধীরে ধীরে এ প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তার মতে, “১৯৭২ সালের পর থেকে গোপনে শুরু হওয়া ভারতবিরোধিতা পরে প্রকাশ্য রূপ নেয়। ধীরে ধীরে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ভারত আমাদের সবকিছু নিয়ে যাচ্ছে। বাস্তবে কতটুকু সত্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”







