ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্য ইসরায়েল অন্তত এক বছরের বেশি সময় ধরে পশ্চিম ইরাকের মরুভূমিতে গোপনে দুটি সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। সম্পূর্ণ ইরাকি কর্তৃপক্ষের অজান্তে এবং তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে দূরপাল্লার অভিযানের কৌশলগত সুবিধার্থে এই গোপন আস্তানাগুলো গড়ে তোলা হয়েছিল।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ৩ মার্চ, যখন ইরাকের পশ্চিম মরুভূমি অঞ্চলে নিজের মেষ চরাতে গিয়ে একটি ঘাঁটির সন্ধান পান আওয়াদ আল-শাম্মারি নামের এক স্থানীয় মেষপালক। তিনি মরুভূমির একটি গোপন অবতরণপথের কাছে সামরিক হেলিকপ্টার, সশস্ত্র সেনা সদস্য ও বেশ কিছু তাঁবু দেখতে পান এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সামরিক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তথ্য ফাঁসের ভয়ে পরবর্তীতে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ওই মেষপালকের ট্রাককে ধাওয়া করে হামলা চালায় এবং এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই গোপন সামরিক ঘাঁটির প্রাথমিক প্রস্তুতি মূলত ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই চলছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সৃষ্ট তীব্র সামরিক সংঘাতের সময় এই ঘাঁটিগুলোকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের জন্য অগ্রবর্তী বিমান সহায়তা, জরুরি জ্বালানি সরবরাহ এবং আহত সেনাদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তার ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে অত্যন্ত গোপনে ব্যবহার করা হয়।
মরুভূমিতে মেষপালক নিহতের ঘটনার পর ইরাকি সামরিক কর্তৃপক্ষ ওই নির্দিষ্ট এলাকায় তদন্তের জন্য একটি বিশেষ গোয়েন্দা টহল দল পাঠায়। তবে সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ওই গোপন ঘাঁটির সেনারা ইরাকি বাহিনীর ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। এই সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় একজন ইরাকি সেনা সদস্য নিহত হন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন, যা পরবর্তীতে ইরাকি হাই কমান্ডের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
তদন্তকারী ইরাকি কর্মকর্তাদের প্রবল ধারণা, এই অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর এমন দীর্ঘমেয়াদি ও গোপন উপস্থিতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই সম্পূর্ণ অবগত ছিল। ঘটনার শুরুতে ইরাকি কিছু মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা মনে করেছিলেন, ঘাঁটিগুলো হয়তো মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিজস্ব আস্তানা। তবে পরে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে সেখানে মোতায়েন থাকা সংশ্লিষ্ট বাহিনী আমেরিকান নয়, যার ওপর ভিত্তি করেই ইরাকি কমান্ডাররা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে ঘাঁটিগুলো মূলত ইসরায়েলি কমান্ডোদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
একজন উচ্চপদস্থ ইরাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওই অঞ্চলে একই কায়দায় পরিচালিত আরও একটি দ্বিতীয় গোপন ঘাঁটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। সামরিক ও নিরাপত্তা সুরক্ষার স্বার্থে দ্বিতীয় ঘাঁটিটির সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান প্রকাশ করা না হলেও জানানো হয়েছে যে, সেটিও ইরাকের বিশাল পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমি এলাকার কোনো এক দুর্গম জোনে অবস্থিত। ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার এই গোপন মার্কিন নথি ফাঁসের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।







