অবৈধভাবে বসবাস করা, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। গত এক সপ্তাহের এই বিশেষ অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৯ হাজার ৫৭৬ জন অভিবাসী গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১১ হাজার ২৭২ জন প্রবাসীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী দেশজুড়ে তাদের টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।
রোববার (১৭ মে) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে গত ৭ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। আটকদের মধ্যে ৪ হাজার ৮৬৫ জন বাসস্থানসংক্রান্ত নিয়ম, ৩… হাজার ৩১৯ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ১… হাজার ৩৯২ জন শ্রমসংক্রান্ত অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন।
অভিযানকালে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১… হাজার ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ইয়েমেনি ও ইথিওপিয়ান নাগরিক। এ ছাড়া বেআইনিভাবে সীমান্ত পার হয়ে সৌদি আরব ত্যাগ করার চেষ্টাকালে আরও ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে ২৬ হাজারের বেশি প্রবাসী এই অভিযানের অংশ হিসেবে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছেন।
দেশ থেকে নির্বাসনের পাশাপাশি, সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি প্রবাসীকে জরুরি ভ্রমণ নথি বা আউটপাস সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিমান টিকিট বুকিংসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থান প্রদানের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনে সহায়তা করার অভিযোগে আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করে জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী বা অবৈধ প্রবাসীদের যেকোনো ধরনের আশ্রয় বা সহায়তা দিলে অপরাধীদের ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। একই সাথে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপে ব্যবহৃত যানবাহন বা জমি-জমাসহ যেকোনো সম্পত্তি সরাসরি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে বাজেয়াপ্ত করা হবে।







