দেশের স্বাস্থ্য খাত এবং চলমান শিশু সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কারিগরি একটি চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে পেশাদার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক ঘরানার বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের যুক্ত করায় সচেতন মহলে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বলা বাহুল্য, ‘চাইল্ড প্রটেকশন ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি সংস্থার উদ্যোগে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যা মূলত ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত একটি বৃহৎ প্রকল্প। তবে এই আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনিস আলমগীর, মেহের আফরোজ শাওন, তামান্না সেতু, জ ই মামুন, আখতারুজ্জামান আজাদ এবং মাসুদ কামালের মতো পরিচিত ব্যক্তিবর্গ। এদের কেউই চিকিৎসা পেশা বা স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞ না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো, তা নিয়ে নেটিজেনরা বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।
সমালোচকদের দাবি, এই গোলটেবিল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ ও দোষী প্রমাণ করা। চিকিৎসার মতো একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বর্তমান প্রশাসন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের নিয়ে পরোক্ষভাবে উপহাস ও বিষোদগার করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন সমাজ এই ঘটনাকে ‘আওয়ামীপন্থী নাগরিক সমাজ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সমাজে পুনর্বাসনের’ একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিগত গণ-অভ্যুত্থানের পর যে সমস্ত সুবিধাবাদী বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মী জনরোষের মুখে আড়ালে চলে গিয়েছিলেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকল্পের আড়ালে তাঁদেরকে সমাজে আবার ‘রেলিভেন্ট’ বা প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হচ্ছে, এই সুবিধাভোগী মহলের কাছে বিগত ফ্যাসিবাদের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস কিংবা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ কোনো গুরুত্বই বহন করে না। দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য, যার বিরুদ্ধে এখনই দেশবাসীকে সজাগ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।







