চট্টগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক গ্রাফিতি অপসারণ ও নতুন করে দেয়াললেখা আঁকাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গ্রাফিতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান, বিক্ষোভ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী বিভিন্ন গ্রাফিতি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এক পক্ষ অভিযোগ করে, তাদের আঁকা দেয়ালচিত্র মুছে ফেলা হয়েছে। অপর পক্ষ দাবি করে, অনুমতি ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নতুন গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কোনো পক্ষকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় জিইসি মোড়, ওয়াসা, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট হয়ে দেওয়ানহাট পর্যন্ত এলাকায় রাজনৈতিক সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন ও মাইকিং বন্ধ থাকবে। জননিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে যৌক্তিক দাবি করলেও প্রশাসন সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেয়াললেখা ও গ্রাফিতিও এখন প্রতীকী রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হয়ে উঠছে, যা অনেক সময় মাঠপর্যায়ে উত্তেজনার কারণ তৈরি করছে।







