সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরের টঙ্গীতে এক অনুষ্ঠানে দেশের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেছেন যে, খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলা করা সম্ভব। তিনি দাবি করেন, খাল ও নদীর পানি ধারণক্ষমতার সঙ্গে ভূমিকম্পের একটি অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক রয়েছে। তবে তার এই দাবিটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলা করতে হবে। কারণ নদী ও খালের পানি ধারণক্ষমতার সঙ্গে ভূমিকম্পের একটি অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক জড়িত রয়েছে।’ এই বক্তব্যটি পরিবেশ ও ভূতাত্ত্বিক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: ভূমিকম্প মূলত পৃথিবীর গভীরে অবস্থিত টেকটোনিক প্লেটগুলোর আকস্মিক নড়াচড়া বা ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ট একটি ভূ-প্রাকৃতিক ঘটনা। এর উৎস ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক গভীরে থাকে, যেখানে নদী বা খাল খননের মতো মানবিক বা ভূপৃষ্ঠের কর্মকাণ্ডের কোনো প্রভাব পৌঁছাতে পারে না। নদী খনন বা ড্রেজিং মূলত একটি পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যা বন্যার ঝুঁকি কমাতে বা নৌচলাচল সহজ করতে সহায়তা করে। এটি ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক শক্তির ওপর কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম নয়।
পরোক্ষ সম্পর্কের বাস্তবতা: মাটির গঠন বা পানির স্তরের সঙ্গে ভূমিকম্পের ক্ষতিকর প্রভাবের (যেমন: সয়েল লিকুইফ্যাকশন বা তরলীকরণ) একটি পরোক্ষ ও সীমিত সম্পর্ক থাকতে পারে। নদী তীরবর্তী বা আলগা মাটিতে পানির উপস্থিতির কারণে ভূমিকম্পের সময় ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, খাল খনন করলে ভূমিকম্পের মতো শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
প্রকৃত সমাধান: বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প মোকাবিলায় কার্যকর উপায় হলো ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণ, কঠোরভাবে বিল্ডিং কোড মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে শক্তিশালী করা। নদী বা খাল খনন পরিবেশের জন্য উপকারী হলেও ভূমিকম্প প্রতিরোধের উপায় হিসেবে একে উপস্থাপন করা চরম বিভ্রান্তিকর। আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যা অনুযায়ী, পরিবেশগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূমিকম্পের বিশাল শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।







