পশ্চিমবঙ্গে তথাকথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ শনাক্ত করে আটক ও তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজ্য প্রশাসন এখন থেকে ‘ডিটেক্ট, ডিটেইন অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্তকরণ, আটক ও বিতাড়ন) নীতি অনুসরণ করবে। তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের সরকার এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করা অমুসলিম অভিবাসীরা যদি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী আবেদনের যোগ্য হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, মুসলিম অভিবাসীদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের ধারণা, ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।
প্রশাসনিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চালাবে এবং এরপর অযোগ্য ব্যক্তিদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে বিএসএফ বিষয়টি বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল সঠিক নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরেই কেবল সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করার ফলে অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে আসামেও একই ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে কয়েকজনকে ফেরত পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ২৭ কিলোমিটার এলাকায় নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। এর আগে গত ১২ মে আসামে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় আসামের পথ অনুসরণ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।







