বাংলা সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানিয়ে কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গোলাগুলি ও এক সাক্ষীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের একেবারে লাগোয়া এই অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে এই তাণ্ডব চালায়। এই ঘটনার পর আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার তাঁর সহযোগীদের নিয়ে একটি হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যান। হাজিরা শেষে তাঁরা আদালত ভবন থেকে বের হওয়ার সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের লক্ষ্য করে আচমকা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
সশস্ত্র এই সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহিউদ্দিন ও রনিসহ অন্তত দুইজন গুলিবিদ্ধ হন এবং সব মিলিয়ে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গোলাগুলির এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা হত্যা মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে প্রকাশ্যে সবার সামনে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যায়। আদালত প্রাঙ্গণে এমন প্রকাশ্য অপহরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের বিচার চাওয়ার নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল ও এর আশপাশ থেকে এই সহিংসতার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে। সুরক্ষিত আদালত পাড়ায় কীভাবে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করল এবং এই ধরনের দুঃসাহসিক অপরাধ ঘটাল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই গভীর তদন্ত শুরু করেছে।







