লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল ইসলাম খাঁন সুমনের ঈদ শুভেচ্ছার প্রায় ৬০টি ফেস্টুন ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৪ মে) বিকেলে উপজেলার মান্দারী বাজারে প্রকাশ্যে জেলা পরিবহন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন এই কাণ্ড ঘটান। ফেস্টুন কেটে ফেলার এই দৃশ্যটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জামায়াত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় লাগানোর জন্য ফেস্টুনগুলো একটি অটোরিকশাযোগে মান্দারী বাজারে আনা হয়েছিল। সেখানে রিকশার ওপরে থাকা অবস্থাতেই পরিবহন শ্রমিক দল নেতা আক্তার হোসেন ব্লেড দিয়ে ফেস্টুনগুলো কেটে কুটি কুটি করে নষ্ট করে ফেলেন। জামায়াত নেতা রেজাউল ইসলাম খাঁন সুমন এই ঘটনার কারণ জানতে চাইলে আক্তার হোসেন কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো তাঁর ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ঘটনার সময় মান্দারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এই ফেস্টুন কেটে ফেলার ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যা নাগাদ মান্দারী বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মান্দারী বাজারে অবস্থিত ‘চ্যানেল ফ্যাশন’ নামের একটি শোরুমে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে পরিবহন শ্রমিক দল নেতা আক্তার হোসেন তাঁদের ওপরও চড়াও হন এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাজারে একটি শোরুমে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফেস্টুন কাটা ও ভাঙচুরের এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।







