শেরপুর শহরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার (২৩ মে) রাত ৯টার দিকে শেরপুর পৌরসভার সজবরখিলা মহল্লা থেকে তাকে আটক করা হয়। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবকের কঠোর শাস্তির দাবিতে শহরের উত্তেজিত বাসিন্দারা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এনামুল মিয়া সজবরখিলা মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা। আর ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ তাঁর স্বামীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এনামুল দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে ওই গৃহবধূকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়, যার পর থেকেই এনামুল ওই পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে ফাঁকা বাসায় ওই গৃহবধূকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এনামুল। পরে ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত জানান। এই ধর্ষণের খবরটি রাতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে এনামুলকে তার বাড়ি থেকে আটক করে এবং পুলিশে খবর দেয়।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে এনামুলকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় এনামুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজই আদালতে পাঠানো হবে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার জানান, ঘটনার পর পরিস্থিতি থমথমে থাকায় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।







