বিশ্বজুড়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে গোশতের গুরুত্ব দিন দিন বাড়লেও দেশভেদে এর ভোগে রয়েছে বড় বৈষম্য। ধনী দেশগুলোতে যেখানে মাথাপিছু গোশত খাওয়ার হার অনেক বেশি, সেখানে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাথাপিছু গোশত ভোগে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ নিয়মিত গোশত খান। তালিকায় এরপর রয়েছে লিথুয়ানিয়া ও ব্রাজিল। এছাড়া জাপান, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও গোশত খাওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে গোশত খাওয়ার প্রবণতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গত কয়েক দশকে বিশ্বের জনসংখ্যা ও মানুষের আয় বাড়ার ফলে গোশতের উৎপাদনও কয়েকগুণ বেড়েছে। ১৯৬০-এর দশকে বিশ্বে যেখানে প্রায় ৭ কোটি টন গোশত উৎপাদিত হতো, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটিরও বেশি টনে।
চীন ও ব্রাজিলের মতো মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গোশতের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। অন্যদিকে ভারত ও বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও গোশত ভোগের হার তুলনামূলক কমই রয়ে গেছে।
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে কম গোশত খাওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশে একজন মানুষ বছরে গড়ে মাত্র ৩ দশমিক ৪ কেজি গোশত খান। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যেও এ হার সবচেয়ে কম।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় পোল্ট্রি মুরগির গোশত। গরুর গোশত জনপ্রিয় হলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যায়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ মানুষ গরুর গোশত খেয়ে থাকেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রেড মিট ও প্রক্রিয়াজাত গোশত খাওয়া হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ কারণে পশ্চিমা বিশ্বে অনেকেই গোশত কম খাওয়ার দিকে ঝুঁকলেও সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, গোশত ভোগ এখনো উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভবিষ্যতে শুধু গোশতের ধরন নয়, এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।







