পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঈদ বোনাস এবং অন্যান্য বকেয়া পরিশোধ না করেই চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই জনকণ্ঠের অন্তত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে একযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের ‘মবকারী’ আখ্যা দিয়ে এভাবে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া শ্রম আইন ও ওয়েজবোর্ডের পরিপন্থি।
তারা আরও বলেন, ঈদের আগে এমন সিদ্ধান্ত শুধু অমানবিকই নয়, এটি সংবাদকর্মীদের মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তার ওপরও আঘাত। চাকরিচ্যুত কর্মীদের প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ ছাড়াই সীমিত পরিমাণ অর্থ দিয়ে বিদায় করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
নেতৃবৃন্দ জানান, রোববার চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে সংবাদকর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের বাধায় কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত ও অসুস্থ হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিএফইউজে ও ডিইউজে দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে সব বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ, চাকরিচ্যুতির নোটিশ বাতিল এবং সংবাদকর্মীদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠন দুটি।
তারা মনে করে, সাংবাদিকদের নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল থেকে দূরে রাখা এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।







