রাজধানীর মিরপুরের কালশী বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ দুই ঘণ্টার ক্লান্তিকর চেষ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট একযোগে কাজ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা লে. কর্নেল আজাদ আনোয়ার আগুনের পরিস্থিতি নিশ্চিত করে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের প্রায় ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় সাধারণ জনগণ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বস্তি এলাকার ভেতরের রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়া এবং তীব্র পানি সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে ও বিলম্ব ঘটেছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার মূল সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে কালশী বস্তিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। সংবাদ পাওয়ার পরপরই প্রথমে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু বস্তির ঘরগুলো জঞ্জাল ও দাহ্য পদার্থে ঠাসা থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পরবর্তীতে প্রথমে সাতটি এবং আরও পরে পর্যায়ক্রমে ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয়।
আগুন নেভানোর কাজের শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছিল যে, সেখানে তীব্র পানির স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় ফায়ার ফাইটারদের চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি পানির সাপোর্টের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা ওয়াসাকে জানানো হলে তারা পানি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চারপাশ থেকে আগুনকে ঘিরে ফেলে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান।
এদিকে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় এই ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। আগুন যাতে কোনোভাবেই পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকা ও বহুতল ভবনগুলোয় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চারদিকে বিশেষ নিরাপত্তামূলক বেষ্টনী তৈরি করে কাজ করেন। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিস সেখানে ডাম্পিংয়ের কাজ চালাচ্ছে।







