জুলাই বিপ্লবের পর দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নতুন সরকার গঠনের পর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। এই ঘটনাটি বর্তমানে কলকাতায় গোপনে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
কলকাতার একাধিক নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত ২০ মে কলকাতার মার্কুইজ স্ট্রিট এলাকায় কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এই অভিযান চলাকালে আহাদ বাপ্পী ও রোহানুল ইসলাম নামের দুই বাংলাদেশিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আহাদ বাপ্পী ঢাকার বংশাল থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং রোহানুল ইসলাম সাভার থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আওয়ামী লীগের এই দুই যুবনেতা গ্রেপ্তারের পর কলকাতায় অবস্থানরত দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা তাঁদেরকে আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত করার জন্য পর্দার আড়ালে নানাভাবে জোর চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। কলকাতা পার্ক স্ট্রিট থানা পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই নেতার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। পরবর্তীতে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তাঁদেরকে সাত দিনের পুলিশ কাস্টডি বা রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
এই দুই নেতার আকস্মিক গ্রেপ্তারের খবরে কলকাতায় অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা রীতিমতো বিস্মিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা ছিল যে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁরা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পারবেন; কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো রূপ নিয়েছে। কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সন্ধানে কলকাতা পুলিশ তাদের চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের পর প্রাণভয়ে কলকাতায় অবৈধভাবে আশ্রয় নেওয়া শত শত আওয়ামী লীগ নেতার ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ডিটেনশন সেন্টারে সন্দেহভাজনদের আটক করে প্রাথমিকভাবে ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।







