প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রথম ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতের একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে সরকার। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অর্জনের চিত্র ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তবে এই সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ‘ফ্রিল্যান্সারদের রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র’ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই দেশে প্রথম ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড বা ফ্রিল্যান্সারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি চালু করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেশজুড়ে যেমন ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনি দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে আরও গতিশীল করতে প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সচেতন মহল বলছেন, ফ্রিল্যান্সারদের এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আইডি কার্ড দেওয়ার প্রকল্পটি মূলত বিগত শেখ হাসিনা সরকারের একটি আলোচিত কাজ ছিল, যা বর্তমান তারেক রহমানের বিএনপি সরকার নতুন আঙ্গিকে এবং নতুন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পুনরায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে মাহদী আমিন জানান, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই বর্তমান সরকার নারীকেন্দ্রিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। এছাড়া দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। গ্রামীণ নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘব ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ সরকারি ভর্তুকিসহ যুগান্তকারী ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। মুখপাত্র জানান, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠনে তারেক রহমানের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত সরকারের কিছু জনবান্ধব কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। মাহদী আমিন জানান, ইতিমধ্যেই বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সাথে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে বাদ দেওয়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে পুনরায় বাংলাদেশি পাসপোর্টে যুক্ত করা হচ্ছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।







