যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশজুড়ে জারি থাকা তীব্র ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছে ইরানের কট্টরপন্থী বিচার বিভাগ। এর আগে সোমবার (২৫ মে) দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিশেষ নির্দেশনায় দেশটিতে সাধারণ ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর যে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, মঙ্গলবার (২৬ মে) আইনি আদেশের মাধ্যমে তা বাতিল করে দেয় বিচার বিভাগ। সরকারের এই জরুরি উদ্যোগের ওপর উচ্চ আদালতের এমন হস্তক্ষেপে দেশটিতে নতুন করে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগের অফিশিয়াল বার্তা সংস্থা ‘মিজান অনলাইন’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সচল করার লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ সরকারি কমিটি ‘স্পেশাল হেডকোয়ার্টার্স ফর অর্গানাইজিং অ্যান্ড গভর্নিং দ্য কান্ট্রিজ সাইবারস্পেস’-এর বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর নিরাপত্তা ও আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তটির ওপর এই তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিশেষ ডিক্রির পর ওই উচ্চপর্যায়ের কমিটি দেশজুড়ে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরুজ্জীবিত বা স্বাভাবিক করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই কট্টরপন্থী বিচার বিভাগের কড়া হস্তক্ষেপে পুরোপুরি থমকে গেল সরকার ও সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি চলমান যুদ্ধের সংকটের মধ্যে সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট বন্ধ রেখে প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতের বড় ধাক্কা সামলাতে ‘ইরান প্রো ইন্টারনেট’ নামে একটি স্তরভিত্তিক বা টায়ার্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করেছিল তেহরান। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে দেশের নির্দিষ্ট কিছু পেশাজীবী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপকে চড়া মূল্যের বিনিময়ে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক সাইবার দুনিয়ায় প্রবেশের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল, যা নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।







