ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদের ওপর জর্ডানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী অভিভাবকত্বের অবসান ঘটিয়ে সেখানে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত সম্পূর্ণ নতুন একটি ‘বহু-ধর্মীয়’ প্রশাসন বসানোর গভীর ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পবিত্র এই মসজিদের বর্তমান তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তনের জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যৌথভাবে একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। এই খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর মুসলিম বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই নতুন কাঠামোর আওতায় ইসরায়েল-সমর্থিত একটি তথাকথিত “বহুধর্মীয় প্রশাসন” গঠন করা হতে পারে, যার মূল উদ্দেশ্য আল-আকসা প্রাঙ্গণে মুসলিমদের অধিকার খর্ব করা। এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, এর আওতায় পবিত্র মসজিদটিতে ইহুদিদের উপাসনা ও প্রার্থনার সুযোগ আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি বিস্তৃত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে নতুন করে বড় ধরনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এই নতুন রূপরেখায় কেবল বড় আকারে ইহুদি উপাসনার অনুমতি দেওয়াই নয়, বরং আল-আকসা মসজিদের সামগ্রিক নেতৃত্ব, প্রধান ইমাম নিয়োগ এবং এমনকি পবিত্র জুমার খুতবার ওপরও সরাসরি প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলকে। এর অর্থ হলো, মসজিদের ভেতরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে তেল আবিবের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, যা এতকাল জর্ডানের রাজপরিবারের ওয়াকফ কমিটির অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল।
ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে বাহরাইন, মিশর, মরক্কো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মুসলিম দেশগুলোকে পর্দার আড়ালে এই গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে এই চরম বিতর্কিত প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে সৌদি আরব। রিয়াদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আল-আকসার তত্ত্বাবধানের বর্তমান জর্ডানীয় ব্যবস্থা সমগ্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই কোনো অবস্থাতেই এই ঐতিহাসিক ব্যবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদদের মতে, আল-আকসা দখলের এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবশালী মেয়ের জামাই জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি-এর সরাসরি সমর্থন ও জোরদার তৎপরতা রয়েছে। মূলত আব্রাহাম চুক্তির পরিধি বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি আধিপত্য চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যেই ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকেরা মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম এই স্থানটিকে নিয়ে এমন বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেছেন।







