যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আরও কঠোর, বিধ্বংসী ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফাজল শেখারচি স্পষ্ট করে বলেছেন, নতুন করে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানি ভূখণ্ডে বা স্বার্থে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে তার প্রতিক্রিয়া শুধু আঞ্চলিক সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বৈশ্বিক রূপ নিতে পারে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফারস নিউজ’-এর প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে শেখারচির বরাত দিয়ে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল যদি আবারও নতুন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে এবার ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া হবে আগের চেয়ে আরও ব্যাপক, ভারী ও শক্তিশালী। তেহরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো সীমানা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি সামরিক বাহিনীকে সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে বার্তা সংস্থা ফারস তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত লারাক দ্বীপের দক্ষিণ জলসীমায় একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে যৌথভাবে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান। অত্যন্ত উসকানিমূলক ওই বিমান হামলায় জাহাজে থাকা কয়েকজন নিরীহ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে, যা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আচমকা বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। এরপরই ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। লারাক দ্বীপের কাছে নতুন করে ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনা সেই পুরনো উত্তেজনাকে আবারও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ ও চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ইসলামিক দেশগুলোর জোটের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের নেতৃত্বে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। যুদ্ধ থামাতে এবং দেশগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালানো হলেও, ওয়াশিংটন-তেল আবিবের নতুন হামলা এবং তেহরানের পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারিতে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি আবারও চরম অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিয়েছে।







