সরকারবিরোধী প্রচারণা দমন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি কিনছে সরকার। এ লক্ষ্যে আলোচিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)-এর জন্য ‘এক্সপানশন অব কনটেন্ট ব্লকিং অ্যান্ড ফিল্টারিং সিস্টেম (ফেজ-১)’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৫ কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি-এর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৩৭ টাকা ব্যয়ে এ প্রযুক্তি সংগ্রহ করা হবে। তবে এনটিএমসির জন্য ঠিক কী ধরনের যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তি কেনা হচ্ছে, সে বিষয়ে সভার আলোচ্যসূচিতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সভায় রাষ্ট্রীয় সংস্থার জন্য এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল ও এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০ হাজার টন মসুর ডাল আমদানির প্রস্তাবেও সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এই এনটিএমসি দিয়ে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন এই সরকারি সংস্থার মহাপরিচালক ছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, যার বিরুদ্ধে নাগরিকদের ওপর নজরদারি ও বিরোধী মত দমনের বহু অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, তৎকালীন দমনমূলক আওয়ামী সরকারের সময় এই সংস্থার জন্য ইসরায়েল থেকে বিতর্কিত প্রযুক্তিও আনা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিএনপি সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এখন এই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দিকে পা বাড়াচ্ছে।
২০১৩ সালের ৩১ জুলাই যাত্রা করা জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি)-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা, পর্যবেক্ষণ ও অন্যান্য সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহযোগিতা করা। যদিও সংস্থাটি এতদিন ব্যবহার হয়েছে শুধু সরকারের হয়ে নাগরিকদের ফোনকল ও ইন্টারনেটে বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপে আড়িপাতা এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থা ও ইন্টারনেট অপারেটর নিয়ন্ত্রণের কাজে। বর্তমানে সংস্থাটিকে নতুন বিধিমালার অধীনে এনে একটি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের আওতায় পরিচালনার জোরালো দাবি উঠেছে।
এনটিএমসি পরিচালিত হয় সরকারের বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে। মোবাইল ফোনের ভয়েস ও এসএমএস, ল্যান্ডফোন ভয়েস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আড়ি পাততে পারে এনটিএমসি। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), টেলিগ্রাম, ভাইবার, ইমো ও স্কাইপির মতো জনপ্রিয় অ্যাপের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগ ও ই-মেইলে শতভাগ আড়িপাতার সক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির।
ইসরায়েলের সাবেক এক গোয়েন্দা কমান্ডার পরিচালিত কোম্পানি থেকে নজরদারির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কিনেছিল বাংলাদেশ সরকার, যা ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে আনা হয় বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ তাদের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুঠোফোন ও ইন্টারনেট মাধ্যমে যোগাযোগের ওপর নজরদারিতে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তিটি সাইপ্রাসে নিবন্ধিত ‘প্যাসিটোরা’ নামের একটি কোম্পানি এনটিএমসির কাছে বিক্রি করেছিল। কোম্পানিটি পরিচালনা করেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা প্রযুক্তি ইউনিটের সাবেক কমান্ডার টাল দিলিয়ান।







