পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত অন্তত ৫৭৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যে এই আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে। আহতদের বেশিরভাগই নিজেদের ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পশুর আকস্মিক লাথি-গুঁতোয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছেন।
বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে যে, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস তৈরি করতে গিয়ে আহতদের মধ্যে শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন ১০০ জন। এছাড়া জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানসহ (পঙ্গু হাসপাতাল) রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ২৩০ জন। ঢাকার বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এর বাইরে মৌলভীবাজারে ৫০ জন ও জামালপুরের ইসলামপুরে ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আহতের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। রাজধানী ঢাকায় কোরবানি সংশ্লিষ্ট কাজ করতে গিয়ে ২৩০ জনের বেশি মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হন। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এছাড়া মৌলভীবাজারে ৫০ জন আহত হয়েছেন এবং জামালপুরের ইসলামপুরে গরুর লাথি ও ছুরির আঘাতে এক ইমামসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের অধিকাংশই কোরবানির পশুর মাংস পিস করতে গিয়ে ধারালো ছুরি, দা ও অন্যান্য অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছেন। মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত হাত বা পা কেটে যাওয়ায় অনেকের ক্ষতস্থানে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া বড় গরু-মহিষ জবাইয়ের সময় উত্তেজিত প্রাণীর আকস্মিক লাথি কিংবা নিচে চাপা পড়ে অনেকের হাত-পা ভাঙাসহ বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ আঘাত পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরাঞ্চলের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত অভিজ্ঞতার অভাব ও চরম অসাবধানতার কারণেই এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। বিশেষ করে ঈদের দিন বাড়তি উপার্জনের আশায় মাঠে নামা মৌসুমি কসাই ও পরিবারের অপেশাদার সদস্যরা পশু জবাই এবং মাংস কাটতে গিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেশি আহত হয়েছেন।
কোরবানির সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও পশুকে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই সচেতনতামূলক পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। তবে প্রতিবছরই কোরবানির ঈদে পশুকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মাংস কাটার সময় অসচেতনতার কারণে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এবারও ঈদের দিন সকাল থেকেই ঢামেকের জরুরি বিভাগে এমন ধারালো অস্ত্রে হাত-পা কাটা মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার পশু কোরবানি অনুষ্ঠিত হয়। সকালের দিকে ঈদের প্রধান জামাত শেষ হওয়ার পর দুপুরের মধ্যেই দেশের অধিকাংশ স্থানে কোরবানি সম্পন্ন করতে সক্ষম হন সাধারণ মানুষ ও কোরবানিদাতারা।







