ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন এবং কোরবানির পশুর চামড়া ভারতে পাচার রোধে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান ও টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ।
সীমান্ত পরিদর্শনের সময় ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বিভিন্ন ক্যাম্পে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সুরক্ষার স্বার্থে ও চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, বিজয়নগর ও কসবা উপজেলার সঙ্গে ভারতের প্রায় ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা রয়েছে।
প্রতি বছরই পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সীমান্তের এই দীর্ঘ রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশের মূল্যবান কোরবানির পশুর চামড়া ভারতে পাচার করতে তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্র। এই সুযোগ বন্ধ করতে এবার আগে থেকেই বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি।
বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, অবৈধভাবে যেন ভারত থেকে কোনোভাবেই কোনো নাগরিকের পুশইন বা অনুপ্রবেশ না ঘটে এবং একই সঙ্গে কোরবানির পশুর চামড়া পাচার ও মাদক চোরাচালান সম্পূর্ণ রোধ করা যায়, সেজন্য সীমান্তে বিজিবির জনবল ও তৎপরতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ঈদের ছুটির দিনেও বিরামহীনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা।
তিনি আরও জানান, দেশের সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে এবং সীমান্ত সুরক্ষা সর্বদা নিশ্চিত থাকে, সেজন্যই মূলত এই বিশেষ টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো ধরনের পুশইন বা অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে ও পারস্পরিক সমঝোতা বজায় রাখতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্ল্যাগ মিটিং বা পতাকা বৈঠকও সম্পন্ন করা হয়েছে।







