চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ভেল্লাপাড়া এলাকায় বেপরোয়া গতির ঈগল পরিবহনের একটি বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আরও এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।
নতুন করে নিহত হওয়া এই যুবকের নাম সজিব হোসেন (২৬)। তিনি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের খুরাইশ চৌধুরী বাড়ির নূর হোসেনের ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ভেল্লাপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঈগল পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতমুখী যাত্রীবাহী লেগুনাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনার প্রায় ৩০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তাদের মধ্য থেকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১৪ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে আনার পর প্রথম দফায় মারা যাওয়া ওই তিনজন হলেন— পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের দুলা মিয়ার ছেলে মো. ইউসুফ (৫৩), একই উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নের মবিনুল ইসলামের ছেলে রুবেল (২৬) এবং পটিয়া পৌরসভার গোবিন্দখীল এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে হারুনুর রশিদ (৫১)। তারা সবাই লেগুনার যাত্রী ছিলেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কর্ণফুলী থানা এলাকায় বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে আহতদের রাতে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে গুরুতর জখম হওয়া সজিব হোসেন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাকিদের চিকিৎসা চলছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।







